ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮৫৯ রানের ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল শ্রীলঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক
১৮ ঘন্টা আগে
৮৫৯ রানের ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল শ্রীলঙ্কা
স্কোরবোর্ডে ৪৩০ রানের লক্ষ্য। শুরুতেই ২৪ রানে নেই ২ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখাও কঠিন। কিন্তু শ্রীলঙ্কা শুধু সেই স্বপ্ন দেখেনি, রাওয়ালপিন্ডিতে তা বাস্তবেও পরিণত করেছে। পবন রত্নায়েকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, দাসুন শানাকার ঝোড়ো ব্যাটিং আর জানিথ লিয়ানাগের অবিশ্বাস্য শেষ মুহূর্তের বীরত্বে ইংল্যান্ডের দেওয়া রানপাহাড় টপকে গেছে লঙ্কানরা। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে দলকে ২ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন লিয়ানাগে। ওয়ানডে ইতিহাসে এটি শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল রানের উৎসবে। দুই দল মিলে তুলেছে ৮৫৯ রান। ইংল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি শ্রীলঙ্কার সামনে।

৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। ৪.২ ওভারে ২৪ রানেই ফিরে যান দুই ব্যাটসম্যান। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ রান করে জশ টাঙের বলে বোল্ড হন। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কোনো রান না করেই রানআউটের শিকার হন।

এমন বিপর্যয়ের পর দলের হাল ধরেন আভিস্কা ফার্নান্দো ও পবন রত্নায়েকে। তৃতীয় উইকেটে ১৩৭ বলে ১৬৬ রানের জুটি গড়ে তারা ম্যাচে ফেরান শ্রীলঙ্কাকে।

সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন আভিস্কা। কিন্তু ২৮তম ওভারের প্রথম বলে জেমি ওভারটনের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হয়ে থামতে হয় তাকে। ৮৩ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৯৭ রান করেন এই ওপেনার। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থামে তার ইনিংস।

তবে আভিস্কা ফিরলেও দমে যাননি রত্নায়েকে। ৮৭ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে ওয়ানডেতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৩০ রান করে স্যাম কারানের বলে আউট হন রত্নায়েকে।

রত্নায়েকের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৭৯ বলে ১৩৩ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন দাসুন শানাকা। এই জুটিতেই জয়ের পথে অনেকটা এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

ব্যক্তিগত ৩২ রানে একবার আউট হতে হতে বেঁচে যান শানাকা। গাস অ্যাটকিনসনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক জর্ডান কক্সের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান শানাকা। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তাঁর ব্যাটে নয়, হেলমেটে লেগেছিল।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান শানাকা। রত্নায়েকে ফিরে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপ ধরে রাখেন তিনি। অন্য প্রান্তে লিয়ানাগেও চালিয়ে যান চার-ছক্কার ঝড়।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা যেন আরও বেড়ে যায়। শেষ ২৪ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। স্যাম কারানের করা ওভারে ১৯ রান তুলে সমীকরণ সহজ করেন লিয়ানাগে ও সতীর্থরা। সেই ওভারে একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন লিয়ানাগে। সাহান আরাশশিগে চার মেরে আউট হলে আবারও চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৮ রান, হাতে ৪ উইকেট। কিন্তু জশ টাঙ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে দুনিথ ভেল্লালাগে ও ইশান মালিঙ্গাকে বোল্ড করে ম্যাচে ফের উত্তেজনা ছড়ান। দুই উইকেট পড়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের সম্ভাবনাও উঁকি দিতে শুরু করে।

চতুর্থ বলে আসিতা ফার্নান্দো এক রান নিয়ে লিয়ানাগেকে স্ট্রাইক দেন। এরপরই আসে ম্যাচের শেষ দৃশ্য, টাঙের বল লং অফের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন লিয়ানাগে। ছক্কায় নিশ্চিত হয় শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়, লেখা হয় নতুন রেকর্ড।

৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দুই উইকেটের এই জয় শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি। আর ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার ঘটনা। রাওয়ালপিন্ডির এই ম্যাচ তাই শুধু রানের উৎসব নয়, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


কমেন্ট বক্স